ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং স্বচ্ছ করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২১ মে ২০২৫ থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ‘ডিজিটাল শস্য জরিপ’। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি চাষির জমির সঠিক তথ্য এবং সেখানে কী ফসল চাষ হচ্ছে, তার নির্ভুল ডেটাবেস তৈরি করা।
এতদিন পর্যন্ত খাতা-কলমে বা অনুমানের ভিত্তিতে চাষের তথ্য সংগ্রহ করা হতো, যাতে অনেক সময় ভুল থেকে যেত। কিন্তু এই ডিজিটাল জরিপ পদ্ধতিতে মোবাইল অ্যাপ এবং স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে জমির অবস্থান (Geo-fencing) চিহ্নিত করা হবে। এর ফলে সরকারি সাহায্য বা শস্য বিমার টাকা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছানো অনেক সহজ হবে। কোনো মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপের অবকাশ থাকবে না।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ব্লকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা যাবেন। তারা সরাসরি মাঠে দাঁড়িয়ে ফসলের ছবি তুলবেন এবং তা সরকারি পোর্টালে আপলোড করবেন। এতে কোন এলাকায় খরা বা বন্যার কারণে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিমেষের মধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গের কৃষকদের জন্য এটি বিশেষ আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে, কারণ এখানে বিভিন্ন মরসুমে নানা ধরণের অর্থকরী ফসল চাষ হয়।
চাষিদের জন্য এই জরিপ আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য থাকলে সরকার বুঝতে পারবে কোন বছর কোন ফসলের ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই অনুযায়ী বাজারের চাহিদাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অনেক সময় দেখা যায় সঠিক তথ্যের অভাবে কৃষকরা ফসলের নায্য মূল্য পান না। ডিজিটাল পরিকাঠামো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে।
সাধারণ কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে, যখন এই কর্মীরা আপনার এলাকায় তথ্য সংগ্রহে আসবেন, তখন তাদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। আপনার দেওয়া একটি সঠিক তথ্য আপনার ভবিষ্যতের কৃষি ঋণ এবং বিমার পথ প্রশস্ত করবে। প্রযুক্তির এই সুফল যদি প্রান্তিক চাষির কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবেই রাজ্যের কৃষি মানচিত্রে এক নতুন বিপ্লব আসবে।

