উত্তরবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রে জোয়ার ও নদী তীরবর্তী উন্নয়ন
উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে আরও চাঙ্গা করতে এক মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ১৮ মে ২০২৬ তারিখে উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SJDA) এবং রাজ্য পর্যটন দপ্তর যৌথভাবে এই প্রকল্পটির সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে তিস্তা এবং মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ তীরবর্তী এলাকায় উত্তরবঙ্গে নতুন ইকো ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তোলা হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতির চেহারা বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে মহানন্দা নদীর চড়া এবং জলপাইগুড়ির তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় এই পার্কগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন ইকো ট্যুরিজম পার্ক তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে পর্যটকদের জন্য এক বিশ্বমানের বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর পারের ভাঙন রোধ করার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজায়ন করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য স্বনির্ভরতার এক নতুন পথ খুলে দেবে এই সরকারি উদ্যোগ।
ইকো ট্যুরিজম পার্কের প্রধান আকর্ষণ ও পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা:
এই মেগা প্রজেক্টের অধীনে যে সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- নৌবিহার ও ওয়াটার স্পোর্টস: তিস্তা নদীর শান্ত জলভাগে পর্যটকদের জন্য বোটিং এবং কায়াকিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা থাকবে।
- হস্তশিল্পের বিপণন কেন্দ্র (Hat): উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র এবং স্থানীয় চা বিক্রির জন্য স্থায়ী স্টল তৈরি করা হবে।
- পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও প্রজাপতি উদ্যান: মহানন্দা অববাহিকার জীববৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখতে একটি বড় পরিযায়ী পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক বাটারফ্লাই পার্ক তৈরি হবে।
স্থানীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানে এই প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব
এই প্রকল্পটির সুফল সরাসরি পাবেন ফাঁসিদেওয়া, নকশালবাড়ি এবং সংলগ্ন রাজগঞ্জ ব্লকের গ্রামীণ যুবকেরা। হোমস্টে ব্যবসার প্রসার এবং গাইড হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের (NBSTC) পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি জংশন থেকে এই পার্কগুলোতে যাওয়ার জন্য বিশেষ ট্যুরিস্ট বাস চালুর পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের একাংশ এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নদীপারের অবৈধ বালু খনন ও দূষণ রুখতে এই পার্কগুলো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। সমগ্র উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে এই নতুন সংযোজন কেবল দেশীয় পর্যটকদেরই নয়, বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের পর্যটকদেরও বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে। আগামী শীতের মরশুম শুরুর আগেই প্রথম দফার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।


