উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের আবাসন প্রকল্প ও সামাজিক উন্নয়ন উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এবং তরাই অঞ্চলের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড়সড় উপহার দিল রাজ্য সরকার। ১৭ মে ২০২৬ তারিখে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পের অধীনে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের আবাসন প্রকল্প-কে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিশেষ অতিরিক্ত তহবিল মঞ্জুর করা হয়েছে। এর ফলে ফাঁসিদেওয়া, নকশালবাড়ি এবং মেটেলি ব্লকের বন্ধ ও সচল চা বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই চা বলয়ের শ্রমিকদের পাকা মাথার ছাদ এবং উন্নত জীবনযাত্রার দাবি ছিল। রাজ্য সরকারের এই নতুন আর্থিক প্যাকেজের ফলে আবাসন তৈরির কাজ বর্ষার আগেই অনেকটাই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের আবাসন প্রকল্প কেবল পাকা বাড়ি দেওয়াই নয়, সেই সাথে প্রতিটি কলোনিতে পানীয় জল এবং বিদ্যুতের সংযোগ সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও পরিকাঠামো:
- পাকা আবাসন: প্রতিটি চিহ্নিত শ্রমিক পরিবারকে সম্পূর্ণ নিখরচায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।
- জল ও স্বাস্থ্য: প্রতি আবাসনে মিশন নির্মল বাংলার অধীনে শৌচাগার এবং পানীয় জলের ট্যাপ কানেকশন থাকবে।
- রাস্তাঘাট নির্মাণ: চা বাগান সংলগ্ন ভেতরের রাস্তাগুলোকে ঢালাই রাস্তায় রূপান্তরিত করা হবে।
প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বেশ কয়েকটি চা বাগানে ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই বাড়িগুলো তৈরি করা হবে। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগে খুশি চা বাগানের আদিবাসী ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


